সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
বিপিএলের শেষ রাউন্ড উত্তেজনা ছড়াচ্ছে বেশ। অঙ্কের হিসাব-নিকাশ কাল লিগ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত বাকি থাকবে কয়েক দলের জন্য। তবে আজ চার দলের লড়াইয়ে সবচেয়ে জটিলতায় মিনিস্টার ঢাকা। বরিশালের সঙ্গে আজ তাদের আসলে টিকে থাকার লড়াই। ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পাওয়া বরিশাল একমাত্র দল হিসেবে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে। ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ রূপ নেওয়া দুপুরের ম্যাচে তাদের সঙ্গে জিততেই হবে ঢাকাকে। তিনে থাকা ঢাকার ৯ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট। আজ না জিতলে প্লে অফে ওঠা মাহমুদউল্লাহদের জন্য খুবই কঠিন। একটা ক্ষীণ সুযোগ থাকবে। তবে সেজন্য বাকি দুই ম্যাচেই খুলনা টাইগার্সের হার চাইতে হবে ঢাকাকে। খুলনার এ দুই ম্যাচ আবার কুমিল্লার সঙ্গেই। আজ থেকে অন্তত দু’দিনের জন্য ঢাকা তাই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সমর্থক।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে হারের পরদিন সিলেটে খুলনার সঙ্গে জিতে পয়েন্ট তালিকায় মুশফিকদের ওপরে থাকা নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহরা। চট্টগ্রামের মতো খুলনার বিপক্ষে ১৩০ রানের অল্প লক্ষ্য অর্জনও গিয়ে ঠেকে শেষ ওভারে। কিন্তু শুরুর ২ বলে শুভাগত হোমের দুই ছক্কায় রক্ষা হয় দলটির। আজও শুভাগত হোম-মাহমুদউল্লাহদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ মুখোমুখি হওয়া আগের লড়াইয়ে বরিশালকে হার উপহার দেওয়া ঢাকায় যে আন্দ্রে রাসেল নেই। বরিশালকে ওই ম্যাচে হারাতে রাসেলের ১৫ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। এমন ইনিংস কারও ব্যাটে যে আবার চাই আজ। নয়ত সাকিবকে থামাতে হবে। গত চার ম্যাচেই বরিশালের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব। গেইল-ব্রাভো-মুজিবরা থাকলেও ফরচুনের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন অধিনায়কই। আজকের ম্যাচে তাই তামিম-মাহমুদউল্লাহদের প্রবল প্রতিপক্ষও সাকিব একাই।
তবে গত চার ম্যাচের মতো সাকিবের ওপরই যে ভরসা করবে দল এমনটা নয় বলে জানান ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। আবার প্রতিপক্ষে দেশের তিন সেরা ক্রিকেটার থাকলেও ভয় পাচ্ছেন না তারা, ‘ক্রিকেটে নাম দিয়ে কখনই খেলা হয় না। ব্যাটে-বলে ভালো করলেই জেতা হবে। তাই গত ম্যাচে কী হয়েছিল তা নিয়ে ভাবছি না। সামনে নতুন ম্যাচ, এটাতে কত ভালো নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যে চিন্তা বা পরিকল্পনা থাকে সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে পারলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’ আজকের লড়াইয়ে টিকে থাকার চাপ নেই দলটির। শান্তরা তাই প্লে অফ পর্ব নিয়ে ভাবছেন, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্যই খেলব। সামনে যে ম্যাচগুলো আছে সবগুলোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন গত ম্যাচগুলোতে যে ভুল করেছি সামনে চাইব যেন ওই ভুলগুলো না হয়। এভাবে পরের ম্যাচটা খেলতে পারলে সামনের ম্যাচগুলো সহজ হবে।’
বরিশালের পরে ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কুমিল্লা অনেকটাই নির্ভার। তাদের বাকি দুই ম্যাচ খুলনার সঙ্গে। খুলনার জন্য আবার এ দুই ম্যাচ বাঁচামরার লড়াই। কুমিল্লাকে এ দুই ম্যাচে না হারালে বাদ পড়তে পারে খুলনা। কারণ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আগামীকাল তাদের শেষ ম্যাচে সিলেট সানরাইজার্সকে হারালে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করবে। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেও ১০ পয়েন্ট নিয়ে সুযোগ থাকবে খুলনার। কারণ, চট্টগ্রামের চেয়ে রানরেটে এগিয়ে তারা।